আগস্ট ২০২২ এর বেস্ট সেলিং ২০টি বই

গত আগস্ট মাসে অনেক বই পাঠক-জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। আসুন জেনে নিই এর মধ্যে বেস্ট সেলিং ২০টি বইগুলোর নাম এবং সংক্ষিপ্ত বিবরণ:

ডোপামিন ডিটক্স
লেখক : থিবো মেরিস

বর্তমান দুনিয়ায় তথ্যপ্রযুক্তির এত এত ব্যাপকতা যে, আমাদের মস্তিষ্ক সর্বক্ষণ ব্যস্ত থাকে বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে। একটি শেষ হবার আগেই নতুন আরেক প্রলোভন এসে হাজির হয়। এই প্রলোভনের মাধ্যমেই কর্পোরেট দুনিয়া ব্যবসা করে। এটা তাদের কাজ। কিন্তু নিজেদের ওপর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় আমরা হারাই জীবনের সবচেয়ে দামী সুযোগগুলো। নষ্ট করি মহামূল্যবান সময়গুলো।

এজন্যই আপনাকে মস্তিষ্কের ডোপামিনকে নিয়ন্ত্রণ করা শিখতে হবে। মস্তিষ্কের ডোপামিন নিউরোট্রান্সমিটারের ফাঁদে ফেলে আমাদের যে ক্ষতি করা হচ্ছে, তা কাটিয়ে উঠবার জন্য চমৎকার কিছু রাস্তা দেখিয়েছেন থিবো মেরিস। তার ওয়ার্ল্ড বেস্ট সেলিং বই ‘ডোপামিন ডিটক্স’ সেসব রাস্তাগুলো নিয়েই লেখা। এতে আপনি পাবেন নিজের মস্তিষ্ককে নিয়ন্ত্রণ করার ম্যাপ। গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে ফোকাস ধরে রাখা, গড়িমসি থেকে রক্ষা, মোটকথা আপনার জীবনকে লক্ষ্যকেন্দ্রিক করতে যত উপায় উপকরণ আছে, এই বইতে পেয়ে যাবেন।

ডাবল স্ট্যান্ডার্ড ৩
লেখক : ডা. শামসুল আরেফীন

২০১৭ সালে ডাবল স্ট্যান্ডার্ড-১ এর পাঠকপ্রিয়তার পর নারীবিষয়ক অভিযোগগুলো নিয়ে ২০২০ সালে আসে ডাবল স্ট্যান্ডার্ড-২। এবার আরও কিছু অভিযোগ নিয়ে একই ধাঁচে এলো ডাবল স্ট্যান্ডার্ড-৩। বইয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর কয়েকটি সরাসরি ঈমানের সাথে সম্পর্কিত। যেমন কুরআন-হাদিস কীভাবে সংকলন হয়েছে, সেটা জানাটা ঈমানের অংশ। ঠিক কীসের উপর আমরা ঈমান এনেছি, সেটা কতটুকু বিশুদ্ধ, এ ব্যাপারে সংশয় একেবারে ঈমানে গিয়ে কোপ দেয়। যে জান্নাতের স্বপ্ন আমরা দেখি, তার ব্যাপারে সংশয় থাকাটা ঈমানের রোগ। জান্নাতের জীবন্ত চিত্র, তাজা অনুভূতি থাকাটা ঈমানের স্বাদ এনে দেয়। এরকম কিছু মৌলিক বিষয় নিয়ে আলাপ করার হয়েছে এবারের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড ৩ বইতে। গল্পের ছাঁচে ফেলে যুক্তিতর্কগুলোকে সুস্বাদু করবার সেই চিরচেনা ভঙ্গিতে।

ইসলামি ব্যাংকব্যবস্থার শুভংকরের ফাঁকি
লেখক : মোহাইমিন পাটোয়ারী

সময়ের পরিক্রমায় একের পর এক নতুন নতুন কার্যক্রম পৃথিবীতে আসে। ইসলামি ব্যাংকব্যবস্থা তার একটি। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে বর্তমানে ইসলামি ব্যাংকিং-এর নামে অনেক সন্দেহজনক লেনদেন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ আছে। বর্তমানে প্রচলিত ইসলামি ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম যেভাবে চলছে তা পর্যালোচনা করলে এই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠে যে অনেক ইসলামি ব্যাংক পণ্য ক্রয়ের নাম করে কৌশলে গ্রাহকদেরকে সরাসরি অর্থ প্রদান করছে। ফলে সুদি ব্যাংকব্যবস্থার সাথে ইসলামি ব্যাংকব্যবস্থার মৌলিক পার্থক্য আছে কিনা সেই ব্যাপারে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে; বিশেষ করে মুরাবাহা, বায় মুয়াজ্জাল বিনিয়োগের ক্ষেত্রে। সকল মহলে আরেকটি প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে যে, বাংলাদেশে যেসব ব্যাংক ইসলামি ব্যাংকিং করছে, সেগুলো সুদের বিপরীত ইসলামি ব্যাংকব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করার জন্য করছে কিনা? তার অন্যতম প্রধান একটি কারণ হলো উক্ত ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের অনেকেই সুদি ব্যাংকগুলোর সাথে স্বাচ্ছন্দে লেনদেন চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব প্রশ্নের জট খুলতেই মোহাইমিন পাটোয়ারী লিখেছেন ‘ইসলামি ব্যাংকব্যবস্থার শুভংকরের ফাঁকি’।

দুআ যিকির রুকইয়া
লেখক : সাঈদ ইবনে আলী আল কাহতানী

দুআ আল্লাহকে স্মরণ করার এক উন্নত পন্থা, আর আল্লাহকে স্মরণের মাধ্যমেই দুনিয়ার সবকিছু আলোকিত হয়ে ওঠে। মানুষের মন-মস্তিষ্ক, আমল-ইবাদাত, কাজ-কর্ম সবকিছুই আলোকিত হয় আল্লাহর স্মরণের দ্বারা। আল্লাহর স্মরণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকার হচ্ছে : মাসনূন দুআসমূহ যত্নের সাথে পাঠ করা। মাসনূন দুআ মানে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত দুআ। এ দুআগুলো তাঁর পবিত্র জীবনের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য। কুরআনে আসা এবং নবীজির শেখানো সেসব দুআ ও যিকর নিয়েই রচিত ‘দুআ যিকির রুকইয়া’ বইটি।

সময়কে কাজে লাগান
লেখক : ইমাম ইবনু রজব হাম্বলি (রহঃ), শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু সুলাইমান মুহান্না

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন তাঁর ইবাদাত করার জন্য। আমাদের ওপর কিছু আমল আবশ্যক করেছেন, যা সব সময়ের জন্য প্রযোজ্য। আর কিছু আমল রয়েছে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আবশ্যক। কোন মাসে কোন সময়ে কী কী আমল আল্লাহ বান্দার জন্য আবশ্যক করেছেন, এ বিষয়ে আজ থেকে প্রায় সাতশ বছর আগে অনবদ্য একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন যুগশ্রেষ্ঠ ইমাম ইবনু রজব হাম্বালি (রহিমাহুল্লাহ)। গ্রন্থটির নাম লাতায়িফুল মাআরিফ । যা বারো মাসের আমল-সংক্রান্ত প্রথম বিশুদ্ধ কিতাব। সর্বজন স্বীকৃত এবং এ বিষয়ে রেফারেন্স-বুক হিসেবে প্রসিদ্ধ।জনসাধারণের মাঝে বারো চান্দের ফযীলত বিষয়ে বর্তমানে যে মুনকার ও মনগড়া আমল প্রচলিত রয়েছে, তা দূর করতে এই কিতাবটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে ইন শা আল্লাহ।

নজরের হেফাজত : সফলতার হাতিয়ার
লেখক : ড. শাইখ মাহমুদ মিসরি

বর্তমানে ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মুক্তচিন্তার নামে সর্বত্র নষ্টামি ও নোংরামির যে চর্চা শুরু হয়েছে, তা মানুষকে লাজ-শরম ভুলে অশ্লীলতা ও বেহায়াপনায় লিপ্ত করছে; যুবকদের দেহমনে লাগিয়ে দিচ্ছে যৌবনের আগুন। কীভাবে করবেন নজরের হেফাজত! নজরের হেফাজত করলে কী পুরস্কার রয়েছে আপনার জন্য? বিপরীতে কুদৃষ্টির ফলে কী শাস্তি অপেক্ষা করছে, তারই অনবদ্য গ্রন্থনা-‘নজরের হেফাজত : সফলতা হাতিয়ার’

জন্ম মৃত্যুর সিগনেচার
লেখক : মুসা আল হাফিজ

কিছু কিছু বই থাকে একটু অন্যরকম। আর দশটা বইয়ের মত তার কোনো বিষয়ের উপর সবিস্তার আলোচনা থাকে না, থাকে না কোনো লম্বাচওড়া বিশ্লেষণ। বরং এই বইগুলো কেমন যেন ধ্যানমগ্ন কোনো এক দরবেশের মতো। সেসব বইয়ের শব্দরা এসে নীরবে ছুঁয়ে দেয় আপনার অনুভবকে। উস্তাদ মুসা আল হাফিজ এর “জন্ম মৃত্যুর সিগনেচার” ঠিক এমনই একটি বই। বিশ্বাসের শীতল হাওয়ায় ঝিরঝির করে বয়ে যাওয়া প্রশ্নের স্রোতধারায় লেখক ছুঁয়ে গেছেন আমাদের জীবনবোধকে। মানুষের বোধবুদ্ধি আর হৃদয়-মননের গহীন কক্ষে তাঁর লেখা জ্বালায় আঁধার ঝেটিয়ে দেওয়া আলোর বাতি। ছোট ছোট শিরোনামে, দু’চার লাইনের গদ্যে এই বইয়ের প্রতিটি পংক্তি তাই হয়ে উঠেছে একেকটি আলোর ফোয়ারা, যার পাঠ আপনার বোধকে করবে শাণিত, মননকে করবে আলোকিত।

এখন যৌবন যার
লেখক : মাওলানা যুলফিকার আহমদ নকশবন্দী

স্বাভাবিকভাবেই একজন যুবককে নফস ও শয়তান নানাভাবে পরাস্ত করার চেষ্টা করে। কারণ, জীবনের এই বেলাটায় মানুষের ভেতর যৌন-তাড়না থাকে বেশি। আর একে ব্যবহার করেই যুবককে ঘায়েলের চেষ্টা করা হয়।এ তো হলো সাধারণ হিসাব। কিন্তু আমাদের এ নষ্ট সময় ও পরিবেশে একজন যুবককে অনেক বেশি প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়। রাস্তার বেপর্দা পরিবেশ থেকে শুরু করে কলেজ-ইউনিভার্সিটির সহশিক্ষা, ইন্টারনেটের মতো জরুরি উপকরণের রন্ধ্রে রন্ধ্রে থাকা চরম অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের স্রোতে ভেসে আসা নানারকমের আজাব… সব মিলিয়ে যুবক এখন বিপদে। আগে যে যৌবন ছিল বিপুল সম্ভাবনার আধার, এখন সে যৌবন যেন হাজারো বিপদের আশঙ্কা ।‘এখন যৌবন যার’ বইতে লেখক তুলে ধরেছেন এক আখ্যান, যুবক যাকে আঁকড়ে ধরতে পারবে এই অকুল দরিয়ার অবলম্বন হিসেবে।

জীবনকে কাজে লাগান
লেখক : আহমাদ ইবনু উসমান আল-মাযইয়াদ, ইমাম ইবনু রজব হাম্বলি (রহঃ), মুহাম্মাদ ইবনু সুলাইমান আল-মুহান্না

আমাদের এই দুনিয়ার জীবন কিছু ঘণ্টা-মিনিট-সেকেন্ডের সমষ্টি মাত্র। সময়কে উপযুক্ত খাতে ব্যয় করা তথা ইবাদাতে বিনিয়োগ করার মধ্যেই দুনিয়ার জীবনের সার্থকতা। আর এটাই জীবনকে কাজে লাগানো।কুরআন-সুন্নাহ’র আলোকে জীবনকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তার একটা প্র্যাক্টিকাল গাইডবুক ‘জীবনকে কাজে লাগান’ বইটি। প্রায় ৭০০ বছর পূর্বে রচিত কিতাব থেকে অনূদিত এই গ্রন্থের পাতায় পাতায় ছড়িয়ে আছে মহান রবের জন্যে বছরের বারোটি মাস কীভাবে নিবেদিত করা যায়, তারই নমুনা। বারো মাসের করণীয়-বর্জনীয়, গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক আমল, সেগুলোর দলিল-ভিত্তিক আলোচনা—সব মিলিয়ে ইবাদাত-বন্দেগির এক চমৎকার নির্দেশিকা ‘জীবনকে কাজে লাগান’।

জান্নাত-জাহান্নাম
লেখক : ড. উমার সুলায়মান আল আশকার

কুরআন হাদীসে জান্নাত জাহান্নামের অনেক আলোচনা এসেছে। সেই আলোচনাগুলো ক্রমান্বয়ে সাজিয়ে ড. উমার সুলায়মান আল আশকার লিখেছেন ‘জান্নাত-জাহান্নাম’ নামক চমৎকার একটি গ্রন্থ। জান্নাত-জাহান্নাম কী, কী আছে এতে, জান্নাত-জাহান্নামের স্তর কয়টা, এর স্তরের মধ্যে পার্থক্য কী, মোটকথা বিস্তারিত আলোচনা এসেছে এই বইতে। আখিরাতের সর্বশেষ এ দুটি ঠিকানা—জান্নাত ও জাহান্নাম সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান ও উপলব্ধি যত স্বচ্ছ হবে, ততই আমরা দুনিয়ার ধোঁকা ও প্রবঞ্চনা থেকে সতর্ক হয়ে আসল গন্তব্যে পৌঁছার পাথেয় লাভে মনোযোগী হতে পারব।

ব্যাংকব্যবস্থা ও টাকার গোপন রহস্য
লেখক : মোহাইমিন পাটোয়ারী

আপনি কি জানেন একফালি কাগজ কিভাবে এত গুরুত্বপূর্ণ হলো? অর্থনৈতিক বৈষম্য লাগামহীনভাবে বেড়ে যাচ্ছে কেন? আর কেনই বা উন্নত বিশ্ব এত ঋণগ্রস্থ হয়ে যাচ্ছে। প্রশ্নগুলো খুব তাত্ত্বিক এবং বিচ্ছিন্ন বলে মনে হতে পারে। অথবা মনে হতে পারে এগুলো জানা কি আমাদের খুব প্রয়োজন? আসলে প্রশ্নগুলো মোটেও বিচ্ছিন্ন কিংবা তাত্বিক নয়; সম্পূর্ণ জীবন ঘনিষ্ঠ এবং একই সুতোয় গাথা বাস্তবতা। আমাদের জীবনে নিয়মিত গভীর প্রভাব ফেলা এই না-দেখা বাস্তবতাগুলোকে ছোটছোট গল্পের আকারে সাজিয়ে সবার কাছে সহজভাবে তুলে ধরতে রচনা করা হয়েছে এই বই। বইটিতে গ্রন্থাকার আমাদের এই নাজানা বাস্তবতাকেই গল্পের মতো প্রাণবন্ত এবং ছবির ন্যায় রঙিন করে ফুটিয়ে তুলেছেন।

দাম্পত্যের ছন্দপতন
লেখক : মাজদি মুহাম্মাদ আশ-শাহাভি, সাইয়েদ মুবারক

ইসলামে বিয়ের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য হলো স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সুখী বন্ধন গড়ে তোলা—যেন দুটো প্রাণ একে অপরের মাঝে প্রশান্তি খুঁজে পায়। এজন্য সুখী দাম্পত্য বলতে কী বোঝায়, কীভাবে তা অর্জন করতে হয়, ধরে রাখতে হয়—এসবই আমাদের জানা প্রয়োজন। রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এ সবকিছুই আমাদের বিশদভাবে শিখিয়ে গিয়েছেন।

এই গ্রন্থের লেখকদ্বয় দেখানোর চেষ্টা করেছেন কীভাবে সুখী দাম্পত্য জীবনের শক্ত ভিত গড়ে তোলা যায়—কোথা থেকে আসে নানা সমস্যার ঝড়-ঝাপটা, সেসবের মাঝে কীভাবে টিকে থাকতে হয়, এগিয়ে যেতে হয়। এছাড়া বইয়ের দ্বিতীয় অংশে আলোচনা করা হয়েছে পাত্র-পাত্রী নির্বাচন থেকে শুরু করে স্বামী-স্ত্রীর অধিকারগুলো কী কী ইত্যাদি বিষয়াদি।

ফিতনার ইতিহাস
লেখক : ড. রাগিব সারজানি

এ গ্রন্থটি ইসলামি ইতিহাসের বেদনাসিক্ত একটি অধ্যায়ের প্রমাণ্যচিত্র। এখানে তুলে ধরা হয়েছে এমন এক মর্মান্তিক ঘটনা কিংবা দুর্ঘটনার কথা, যা আজও মুসলিমদের হৃদয়ে হাহাকার সৃষ্টি করে। যেই ঘটনায় সম্মানিত সাহাবিগণের হাতেই শহিদ হয়েছিলেন অনেক সাহাবি। এই গ্রন্থে আমরা কথা বলেছি ইসলামি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফিতনা উসমান ইবনে আফফান রা.-এর হত্যাকাণ্ড নিয়ে। আলোচনা করেছি আলি রা. এবং মুআবিয়া রা.-এর মতো সম্মানিত সাহাবিদ্বয়ের মধ্যকার লড়াই নিয়ে। কথা বলেছি এক অনভিপ্রেত ঘটনায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সাহাবির শাহাদাত নিয়ে। যা তৎকালীন সময়ে ইসলামের প্রচার-প্রসারের ক্ষেত্রে রেখেছিল বিরাট নেতিবাচক প্রভাব।

মুমিনের ৩৬৫ দিনের আমল
লেখক : শাইখ হামদান আল হুমাইদি রহ., হজরত মাওলানা শাহ হাকিম মোহাম্মদ আখতার ছাহেব রহ.

রাসুলুল্লাহর জীবনের ৩৬৫ দিনকে তুলে আনা হয়েছে এ বইটিতে। একজন মুমিনের জীবনের গোটা সময়টা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে পরিচালনার একটি নকশা তৈরি করে দেওয়া হয়েছে বক্ষ্যমাণ গ্রন্থটিতে। সে অনুযায়ী জীবন গড়ে তুলতে পারলে, নবিজির মতো করে বছরের ৩৬৫ দিন অতিবাহিত করতে পারলেই তা হবে একটি পূর্ণাঙ্গ মুমিনচরিত।বইটিকে আমরা দুটি ভাগে বিভক্ত করেছি। প্রথম অধ্যায়ে দৈনন্দিন জীবনে নবিজির দিনলিপির অনুকূলে অর্থাৎ সারাদিনে নবিজির সুন্নাত অনুযায়ী মুমিনের দিনযাপন কেমন হবে তা তুলে ধরা হয়েছে। দ্বিতীয় অধ্যায়ে বারো মাস যাপনের জন্য আমাদের করণীয়-বর্জনীয় ও আমল কী, তার সাথে সম্পৃক্ত নানান বিষয়াদি, শরিয়তের বিভিন্ন জরুরি রুকন, নবিজির সাধারণ আচরণ, চালচলন, ব্যক্তিত্ব, শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরা হয়েছে এ বইটিতে।

নামাজে মন ফেরানো
লেখক : শাইখ আব্দুল নাসির জাংদা হাফি.

বেশ কঠিন কাজগুলোর একটি, নামাজে মন ফেরানো। ১০০ জনকে প্রশ্ন করলে হয়ত ৯৯ জনই বলবে, নামাজে মন বসে না। অথচ কাল কিয়ামতের ময়দানে এই নামাজের হিসাবই সবার আগে নেওয়া হবে! অথচ আমরা একটু সময় দিলেই আমাদের নামাজগুলো করতে পারি জীবন্ত। শাইখ আব্দুল নাসির জাংদা (হাফি.) নামাজে মনোযোগ বাড়ানো নিয়ে লিখেছেন চমৎকার একটি বই ‘নামাজে মন ফেরানো’। এই বইটি নামাজে মন বসানোর অসাধারণ সব কৌশল উন্মোচন করবে। নামাজকে করবে জীবন্ত। আসুন এই সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগাই নিজেদের নামাজকে চূড়ান্ত সফল পর্যায়ে নিয়ে যেতে!

আর রাহীকুল মাখতূম
লেখক : আল্লামা সফিউর রহমান মুবারকপুরী (রহ.)

আর রাহীকুল মাখতূম: একটি অনবদ্য সীরাত-গ্রন্থ। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাত পর্যালোচনায়, সীরাতের ঘটনামালার সুসংহত ও মনোজ্ঞ উপস্থাপনায় বক্ষ্যমাণ গ্রন্থটি সত্যিই এক নজিরবিহীন রচনা। আল কুরআনুল কারীম, হাদীসে নববী ও বিশুদ্ধ আছার এবং ঐতিহাসিক বর্ণনার নির্যাস বের করে প্রাজ্ঞ লেখক তাঁর এ বইটি সুবিন্যস্ত করেছেন।বইটি নির্ভরযোগ্যতার সর্বোচ্চ মানদণ্ড রক্ষা করে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র সীরাত উপস্থাপন করেছে, যা পাঠকের সামনে উজ্জ্বল করে দেয় সীরাতুল মুস্তাকীমের নিশানাসমগ্র। দেখিয়ে দেয় সীরাতুন্নাবী পাঠের সঠিক পদ্ধতি।

খোলাসাতুল কোরআন (পবিত্র কোরআনের মর্মকথা)
লেখক : মাওলানা মুহাম্মদ আসলাম শেখোপুরী

বইটির অনন্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, একেবারে সাধারণ থেকে সাধারণ বাংলা জানা যে কেউ এটা বুঝতে পারবে। সকালবেলা পাঠ শুরু করলে দুপুরবেলা মনে হবে তার অর্ধেক পড়া হয়ে গেছে। আর সন্ধ্যায় এসে মনে হবে তিনি পুরো কোরআন একবার তেলাওয়াত করে উঠেছেন অর্থ ও মর্ম বুঝেই!এর সাবলীল ভাষা, সহজ উপস্থাপনায় প্রতিটি সুরার মর্ম ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আয়াতের পূর্বাপর সম্পর্ক নির্ধারণ, সুরায় উল্লিখিত একাধিক আলোচনার মাঝে যোগসূত্র তৈরি, আল্লাহ তায়ালা কোথায় কী বলেছেন এবং কীভাবে বলেছেন, সবই এই বইতে পাবেন। যে কোনো বড় সূরা পড়ার আগে যদি আমরা বইটি থেকে এর সারমর্ম পড়ে নিই, তাহলে পুরো সূরাটি বুঝতে বেশ সহজ হয়ে যাবে।

ফরজ ইলমের পরিচয়
লেখক : শাইখ আবদুল কাদির শাইবাতুল হামদ রহ.

জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে জানার বিকল্প নেই। ইসলাম তো সম্পূর্ণ জীবনব্যবস্থা। এখানে প্রতিটি মানুষের জন্য জানতে হবে কীভাবে সে ইসলাম অনুযায়ী জীবনযাপন করবে। কতটুকু ইলম অর্জন করা ফরজ? এবং সেই ইলমগুলো কী কী? কীভাবে অর্জন করতে হবে? এ প্রশ্নগুলোর সমাধান বইটিতে পাওয়া যাবে।

কুররাতু আইয়ুন যে জীবন জুড়ায় নয়ন
লেখক : ডা. শামসুল আরেফীন

সংসার-জীবন আর দ্বীনি জীবন কিন্তু আলাদা কিছু নয়। মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। আপনি আদর্শ সংসারী হলে আপনি আদর্শ দ্বীনদারও। সংসার কিম্বা দ্বীন অথবা দ্বীন কিম্বা সংসার—কোনোটিই কি কঠিন কিছু? কিন্তু ব্যাপারটা হলো কি, সমাজের কাছ থেকে আমরা অনেক আবরণ পাই। এই আবরণে আমাদের চোখ যতটা না, তার থেকে বেশি আমাদের বুদ্ধি ও চেতনা ঢাকা থাকে। ফলে আমাদের কাছে অনেক কিছুরই সদর্থ স্পষ্ট থাকে না। সেজন্য দরকার হয় দিক-নির্দেশনার। কুররাতু আইয়ুন এই বিষয়ক নির্দেশনা এত সহজ, সুন্দর ও আপন ভাষায় দেবে, এরকম নির্দেশনা আপনি খুঁজে পাবেন না। পড়তে পড়তে বই, বইয়ের কথা, বইয়ের লেখককে কী যে ভালো লাগবে আপনার।

দুজন দুজনার
লেখক : মুহাম্মাদ আতীক উল্লাহ

এক ছাদের নিচে একত্রে অনেক বছর বাস করেও কখনও সখনও সঙ্গের মানুষটিকে নতুন লাগে….এই যে নতুন বিনিসূতোয় সম্পর্কের নতুন মেলবন্ধন, তা কি একশব্দে ব্যক্ত করা যায়? এমন কিছু চমকে ওঠা, থমকে দেয়া, আবিরমাখা, আবেশছোঁয়া আর ঘোরলাগানো গল্প নিয়ে মাকতাবাতুল আযহারের উপহার ‘দুজন দুজনার’।

Add Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *