যেভাবে প্রোডাক্টিভিটি বাড়াবেন

মানুষের জীবনের নানান রকম লক্ষ্য থাকে। একেক জনের পথ থাকে একেকটা। কিন্তু যত মত, যত পথেরই হোক না কেন, সব মানুষেরই লক্ষ্যে থাকে একটা জিনিস আর তা হচ্ছে—সফলতা। মানুষ যে কাজটিই করুক না কেন, তাতে সে সফল হতে চায়। এটাই হিউম্যান ন্যাচার। কিন্তু সফলতা তো হাতের মোয়া নয় যে চাইলেই হাতে এসে ধরা দেবে। মজার কথা হলো, এই মোয়াটাও তো আর চাইলেই পাওয়া যায় না। মালমসলা আনতে হয়, বানাতে হয়, তারপর না খাওয়ার পালা! তো যেটা বলছিলাম। সফলতা তো আর চাইলেই পাওয়া যায় না। মোয়া বানাতে যেমন কিছু জিনিসপাতি লাগে, ঠিক তেমনি সফলতার পেছনেও কিছু যোগাড়যন্ত্র করা লাগে। আর এজন্য এক নম্বরে যে জিনিসটা লাগে, সেটা হচ্ছে প্রোডাক্টিভিটি।

প্রোডাক্টিভিটি নিয়ে অনেকের, অনেক ধরনের লেখাই আমরা পড়েছি। তো আমাদের একটা আইডিয়া নিশ্চয়ই আছে যে প্রোডাক্টিভিটি মানে কী। নিজের কাজে সবটুকু ঢেলে দিয়ে সেরা ফলাফল অর্জন, মোটামুটি একে আমরা প্রোডাক্টিভিটির সংজ্ঞা হিসেবে দাঁড় করাতে পারি। এখন এই বিষয়টা মাথায় নিয়ে যদি আপনিই একটু নাড়াচাড়া করেন, তবে কিছু বিষয় এমনিতেই আপনার মাথায় চলে আসবে। আপনি কিছুটা হলেও বুঝে ফেলবেন কেন, কীভাবে ও কোন কোন কাজটা আপনার করতে হবে যদি আপনার প্রোডাক্টিভিটি বাড়াতে চান। এর মানে আপনি যে সবটুকু ঢেলে দেবেন, এর মাত্রা বাড়িয়ে তোলা। যাতে সেরা থেকে সেরা ফলাফল আপনি হাসিল করতে সক্ষম হন।  

তো এই লেখায় আমরা আপনার সাথে শেয়ার করতে যাচ্ছি এমনই কিছু প্রোডাক্টিভিটি হ্যাকস। চলুন জেনে নেওয়া যাক। 

১। এক বিষয়ে ফোকাসড হোন 

প্রোডাক্টিভ হবার জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরি যেটা সেটা হলো যেকোনো একটি বিষয়ে ফোকাসড হওয়া। আপনি যদি সব্যসাচী হন, তবে ভিন্ন কথা। এই লেখাটা অবশ্য সব্যসাচী কারোর জন্য নয়ও। ব্যতিক্রমী প্রতিভার অধিকারীদের সাথে নিয়ম চলে না। তাই এখানে আমরা আমাদের মতোই সাধারণদের নিয়ে কথা বলবো, যারা কিছু ট্রিকস নিয়মমাফিক ফলো করে চললেই নাম লেখাতে পারবেন সাধারণ থেকে অসাধারণের কাতারে। আর এজন্য সবার আগে যেটা দরকার সেটা হলো যেকোনো একটি বিষয়ের উপর আপনার সম্পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ করা। আপনি কি হতে চান, কি করতে চান—আগে সেটা ঠিক করে নিন। জ্ঞানীজনের পরামর্শ ও নিজের চিন্তাভাবনার পর যে বিষয়টি ঠিক করবেন, সেটাতেই ঢেলে দেন আপনার সম্পূর্ণ মনোযোগ। একসাথে অনেকগুলো বিষয়ের মধ্যে যদি আপনার মনোযোগ বিলিবন্টন হয়ে যায়, তবে এগুলোর কোনোটিতেই আপনি সফল হতে পারবেন না।

২। অগ্রাধিকার নির্বাচন করুন

নির্দিষ্ট একটি বিষয়ে মনোযোগ তো দিলেন। এবার ঠিক করুন সেই বিষয়টির মধ্যে থাকা কোন কোন অংশকে আপনি সবার আগে রাখবেন। আপনার কাজের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কিছু কাজ নির্ধারণ করে নিন। এই কাজটি হতে হবে যথাযথভাবে, বুঝেশুনে। কোন কাজটি আগে করলে সেটা আপনার মিশনকে সামনে এগিয়ে নেবে, গতিশীল করবে এবং পুরো কাজটি আপনার জন্য সহজসাধ্য হবে, সেটা আপনাকেই নির্ধারণ করতে হবে এবং কাজটি অবশ্যই করতে হবে যথেষ্ট সতর্কতার সাথে। 

৩। নিয়মিত হোন 

যে কাজ করবেন সেটায় নিয়মিত হোন। সোজা কথায়, কাজটির সাথে লেগে থাকুন। ছেড়ে দিলেন, তো হেরে গেলেন। ব্যাপারটা অনেকটা এরকম যে একবার যদি ঘোড়ার লাগামটা ছেড়ে দিতে পারেন, তো ঘোড়াটি আপনাকে রেখে ছুটে চলে যাবে দূর বহুদূর। তাই যে কাজেই হাত দেন না কেন, সেটা কন্টিনিউ করুন। অল্প হোক বা বেশি, কাজে কোনো গ্যাপ দেওয়া যাবে না। সবচেয়ে ভালো হয়, প্রতিদিন সেই কাজের মিনিমাম একটি পরিমাণ ঠিক করে নিন যে এতোটুকু কাজ আপনি করবেনই। এর চেয়ে বেশি করলে তো খুবই ভালো, কিন্তু যদি কোনো কারণে বেশি না পারেন তবে অন্তত এই মিনিমাম কাজটুকু যাতে কোনোভাবেই মিস না যায়।

৪। সংকল্পবদ্ধ হোন

কখনোই কোনো কাজ শুরু করে পিছটান দেবেন না। কখনোই না। তার চেয়ে বরং কাজ শুরু করার আগে বা বিষয়বস্তু নির্বাচন করার আগেই সেটার কাঠিন্য বা আপনি সেটা করতে পারবেন কিনা, সেটা যাচাই করে দেখুন। কিন্তু কাজ যদি একবার বিসমিল্লাহ বলে শুরু করেই দেন, তবে সেটা থেকে আর ইউটার্ন নেবেন না। দৃঢ় হোন, সংকল্পবদ্ধ হোন যে কাজ যেটাই হোক না কেন, শুরু করলে সেটার শেষ দেখেই তবে ছাড়বেন। 

৫। দৈনিক টার্গেট সেট করুন

 আমরা আগেই বলেছি কাজে নিয়মিত হবার কথা। তবে অনেক সময় শুধু নিয়মিত হলেই হয় না, বরং এই বিষয়টিকে আরেকটু গুছিয়ে আনারও প্রয়োজন পড়ে। দৈনিক একটা টার্গেট সেট করুন যে আজকের দিনে আপনি কতোটুকু কাজ নিজের থেকে আদায় করতে চান। একটা টার্গেট সেট করে নিন যেটাকে লক্ষ্য বানিয়ে আপনি কাজ করে যাবেন। এভাবে আপনার কাজ হবে গোছানো, আপনার মন থাকবে স্থির ও লক্ষ্যের প্রতি নিবদ্ধ। কাজে মনোযোগও বাড়িয়ে দেবে এই পদ্ধতি। 

৬। ব্যালেন্স রাখুন পরিশ্রম আর বিশ্রামে

আমরা যেহেতু রোবট না তাই অতি অবশ্যই আমাদের বিশ্রামের প্রয়োজন পড়ে। মাঝে মাঝে আমাদের এমন হয় যে কাজের খুব জোশ ওঠে। কিন্তু না, জোশে কাজ করা যাবে না, হুঁশে কাজ করতে হবে। জোশ থাকবে অবশ্যই, কিন্তু সেটাকে লাগাম দেবে হুঁশ। এমনকি ইবাদাতের ক্ষেত্রেও এমনটাই করতে শেখানো হয়। আপনি জোশের চোটে পুরো রাত ইবাদাতে মশগুল হয়ে কাটিয়ে দিলেন, নিঃসন্দেহে এটা অত্যন্ত প্রশংসিত একটা কাজ হবে। কিন্তু পুরো রাতের পরিশ্রম যদি আপনার অভ্যাস না হয়, তাহলে এই পরিশ্রম আর অনভ্যাস আপনাকে বাধ্য করে ফেলতে পারে ফযরের ফরয নামায কাযা করে ফেলতে। তখন আপনার পুরো রাতের পরিশ্রমটা অনেকটাই পণ্ড হয়ে গেল বলা যায়। ঠিক একইভাবে আপনি যখন কোনো কাজ করবেন তখন কতোটুকু পরিশ্রম করবেন আর কতোটুকু বিশ্রাম, সেটা আপনাকেই ঠিক করে নিতে হবে। বিশ্রাম নিতে গিয়ে আবার যদি আরাম পেয়ে মাত্রাতিরিক্ত করে ফেলেন, সেটাও আপনাকে সমস্যায় ফেলে দেবে। সোজাকথা, পরিশ্রম আর বিশ্রামে রাখুন ব্যালেন্স। তাতে ফলাফল আসবে সুন্দর, শরীরও থাকবে সুস্থ। 

৭। কাজ শুরু করুন ফযরে

এই পয়েন্টটি আরো আগেই আমরা লিখতে পারতাম। কিন্তু এতো পরে লেখার উদ্দেশ্য হলো আগে যদি মানসিকভাবে আপনার প্রস্তুতি সম্পন্ন না হয়ে থাকে, তবে কাজের সময়টা আসলে আপনাকে উপকৃত করবে না। আপনি যদি উপরের বিষয়গুলো বুঝে থাকেন এবং মাথায় গেঁথেও নিয়ে থাকেন, তবে এবার আমরা আপনাকে বলতে চাই কাজ শুরু করুন এমন একটি সময় যে সময়টির মতো সেরা সময় পুরো ২৪ ঘণ্টায় আর একটিও নেই। আর এই সময়টি হচ্ছে ফযর পরবর্তী সময়। এটি এমন একটি সময় যখন বারাকাহ থাকে প্রচুর। আর এই সময়টি থাকে বিশুদ্ধ, কোলাহলমুক্ত ও সতেজতায় ভরপুর। অবশ্য আমরা আমাদের রাতের ঘুমে গড়বড় করে ফেলি বলে এই বরকতময় সময়ের ফায়দা হাসিল করতে পারি না। কিন্তু বাস্তবিক অর্থেই এই সময়টি এতোই অসাধারণ যে এই সময়ে আপনি যে কাজই করুন না কেন, তা মন দিয়ে করতে পারবেন এবং এতে আলাদা একটি সুবিধা পাবেন যা দিনের আর কোনো সময়ই পাওয়া সম্ভব নয়। 

আরো কিছু চাইলে লেখাই যায়, কিন্তু আজ এই পর্যন্তই থাক। নিজের প্রোডাক্টিভিটি বাড়াতে বা নিজেকে প্রোডাক্টিভ করে গড়ে তুলতে এই ক’টি বিষয় বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা যদি সিরিয়াস হয়ে এই ক’টি বিষয়ের উপরই আমল করতে পারেন তো দেখবেন আপনি আগের থেকে বেশি কর্মক্ষম হয়ে উঠেছেন, সার্ভিসও দিতে পারছেন আগের চেয়ে বেশি এবং আগের চেয়ে বেশি দক্ষতা আর গোছালোভাবে আপনার কাজ করে ফেলতে পারছেন। ট্রাই করেই না হয় দেখে নিন!   

2 Comments

  • AL AMIN Posted July 7, 2022 8:03 PM

    ভালো লাগলো

  • Md. Falhar Uddin Posted July 18, 2022 8:11 PM

    excellent

Add Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *