বিয়ে নবীদের সুন্নত

বিয়ে। একাকী জীবনের অবসাদের অবসানে সবচেয়ে আনন্দঘন মুহূর্ত। বিয়ে যে শুধু জীবনের আনন্দের সেরা মুহূর্তের একটি, তাই-ই নয়। বরং আমাদের দ্বীনে বিয়ের স্থান হচ্ছে ইবাদাতের পর্যায়ে। বিয়েকে বলা হয়েছে নবীদের সুন্নাহ। প্রায় সব নবী-রাসূলগণই বিয়ে করেছেন ও তাঁদের সন্তান-সন্ততিও ছিল। আল্লাহ সুব’হানাহু ওয়া তা’আলা বলেন –

“আর অবশ্যই তোমার আগে আমি রাসূলদের পাঠিয়েছি এবং তাদের দিয়েছি স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি।” [সূরা রা’দ : ৩৮]

বিয়ের প্রতি উৎসাহ দিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন –

“বিবাহ আমার সুন্নত। অতএব যে আমার সুন্নত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।” [বুখারী : ৫০৫৬; সহীহ মুসলিম : ১৪০১; সুনানে ইবনু মাজাহ : ১৮৪৬]

বিয়ের ব্যাপারে আরো একটি সুন্দর ও বহুল পরিচিত হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন –

“কোন ব্যক্তি যখন বিয়ে করলো তখন সে দ্বীনের অর্ধেকটা পূর্ণ করে ফেললো। এখন সে যেন বাকি অর্ধাংশের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে।” [শুয়াবুল ঈমান : ৫৪৮৬]

তাই জলদি জলদি বিয়ে করে ফেলুন। কারণ, কল্যাণময় কাজে দেরি করতে নেই একটুও। আর বিয়ে হচ্ছে এমন একটি ইবাদাত যা যত দ্রুত সেরে ফেলবেন, ততই তার উপকারিতা বেশি বেশি হাসিল করতে পারবেন। বিয়ের বরকতে আল্লাহ আপনাকে ফিতনা থেকে হিফাযত করবেন, আপনাকে পবিত্রতা বজায় রাখার তাওফীক দেবেন, আপনাকে ঐশ্বর্য দান করবেন। এগুলো একটিও আমাদের বানানো কথা নয়। কুরআনে আল্লাহ কি বলছেন দেখুন :

“আর তোমরা তোমাদের মধ্যকার অবিবাহিত নারী-পুরুষ ও সৎকর্মশীল দাস দাসীদের বিবাহ দাও। তারা অভাবী হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও মহাজ্ঞানী।” [সূরা নূর : ৩২]

দ্রুত বিয়ের মধ্যে রয়েছে দ্বীন ও দুনিয়া উভয়েরই কল্যাণ। আপনি যত জলদি বিয়ের জন্য উপযুক্ততা অর্জন ও প্রস্তুতি সমাপন করে বিয়েটা সেরে ফেলবেন, তত জলদি আপনি ভাগীদার হবেন একরাশ কল্যাণের। যত জলদি বিয়ে করবেন –

  1. তত জলদি আপনি অসম্পূর্ণতা থেকে মুক্ত হয়ে সম্পূর্ণ হয়ে যাবেন।
  2. আত্মিক ও শারীরিক সূকুন লাভ করবেন।
  3. ফিতনাময় পরিবেশে নিরাপদে থাকার সুযোগ পাবেন।
  4. অস্থিরতা থেকে মুক্তি লাভ করবেন।
  5. অভাবে থাকলে আল্লাহ আপনাকে উনার নিজ দয়ায় অভাবমুক্ত করে দেবেন। কর্মহীন হলে কাজের ব্যবস্থা করে দেবেন।
  6. যৌবনের উত্তাল এই সময় একইসাথে পবিত্র ও আনন্দঘন কাটবে।

এরকম আরো অনেক অনেক কল্যাণ আর উপকারিতা লুকিয়ে আছে দ্রুত বিয়ের মধ্যে। কিন্তু বিয়ে কি চাইলেই করে ফেলা যাবে? অবশ্যই বিয়ের আগে তার জন্য উপযুক্ততা অর্জন করতে হবে। শরীয়ত অনুযায়ী স্ত্রীর ভরণপোষণ বহনের মতো সামর্থ্য অর্জন করতে হবে। স্ত্রীর পর্দা মেইনটেইনের দায়িত্ব নিতে হবে। এছাড়াও বিয়ের জন্য শরীয়তে কিছু রুকন ও শর্ত নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। বিয়ের তিনটি রুকন হলো –

  • পাত্র-পাত্রী একে অপরের জন্য দ্বীনের বিধান মোতাবেক বিয়ের জন্য বৈধ হওয়া। যেমন, একে অপরের মাহরাম না হওয়া, দুজনই মুসলিম হওয়া ইত্যাদি।
  • ইজাব করা বা প্রস্তাব দেওয়া। এটা পাত্র বা পাত্রী, যেকোনো পক্ষ থেকেই হতে পারে।
  • ইজাব কবুল করা। যে পক্ষ প্রস্তাব দেবে, তার বিপরীত পক্ষ সেটা গ্রহণ করে নেবে বলে ঘোষণা দেয়া।

এই তিনটি রুকন ছাড়া বিয়ের জন্য আরো যেসব শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে, সেগুলো হলো –

১। পাত্র-পাত্রী নির্দিষ্ট থাকা।
২। উভয়েরই প্রকাশ্য সম্মতি থাকা।
৩। মেয়ের অভিভাবকের সম্মতি থাকা।
৪। ইজাব কবুলের সময় দুজন সাক্ষী উপস্থিত থাকা।
৫। মোহরানা নির্ধারণ করা।
৬। বিয়ের খবর প্রকাশ্য করা।

আজকাল বিয়ে হয়ে উঠেছে এই জাহিলী সমাজে নিজেকে হিফাযত করার সবচেয়ে বড় মাধ্যমের একটি। এই সমাজে যে যুবক আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে দ্রুত বিয়ে করবে, তাকে আল্লাহ সাহায্য করবেনই কারণ স্বয়ং আল্লাহ এই দায়িত্ব নিজের বলে ঘোষণা দিয়েছেন। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

তিন শ্রেণির ব্যক্তিকে সাহায্য করাকে আল্লাহ নিজের উপর অত্যাবশকীয় করেছেন,
(১) আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ কারী।
(২) এমন দাস, যে তার মনিবের সাথে আযাদী পাওয়ার জন্য কোনো শর্ত আদায় করার ক্ষেত্রে চুক্তিবদ্ধ, এবং
(৩) যে ব্যক্তি নিজের চারিত্রিক পবিত্রতার জন্য বিয়ে করতে চায়।
[সুনানে তিরমিযী : ১৬৫৫]

এর চেয়ে বড় কোনো মোটিভেশন আর লাগে, বলুন? সমাজ কি বলবে, লোক কি বলবে—এই সব চিন্তাগুলোকে দ্বীনের সামনে পিষে ফেলুন। আপনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, নিজেকে হিফাযতের জন্য কাজ করুন। আল্লাহর সাহায্যের নিশ্চিত ওয়াদা আছে আপনার সাথে।

তো বিয়েটা কবে করছেন?

Add Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *